বরিশাল মহাশ্মশানে দীপাবলির আলোয় অশুভ শক্তির বিনাশ!

বার্তা ডেস্কঃ

 

বরিশাল মহাশ্মশানে পালিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী দিপালী উৎসব

বরিশাল: প্রায় দুই শতক পুরনো বরিশাল মহাশ্মশানে আজ শনিবার রাতে উদযাপিত হতে চলেছে অনন্য ‘দিপালী উৎসব’। ভারতীয় উপমহাদেশের আর কোনো শ্মশানে এমনভাবে আলোর উৎসব পালিত হয় না। প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর পুণ্যতিথিতে প্রয়াত প্রিয়জনদের স্মরণে আয়োজিত এই উৎসবে অংশ নিতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন।

১৯২৭ সাল থেকে বরিশাল মহাশ্মশানে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এখানে ৭০ হাজারেরও বেশি সমাধি মন্দির রয়েছে, যার মধ্যে ৬০ হাজারের বেশি পাকা এবং ১০ হাজার কাঁচা মঠ। এর বাইরেও প্রায় ৮০০টি মঠ রয়েছে, যাদের স্বজনরা বর্তমানে সেখানে নেই।

উৎসবের রাতে গোধূলির আলো মিলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোমবাতি, প্রদীপ ও টুনি লাইটের মায়াবী আলোয় ভরে ওঠে পুরো মহাশ্মশান। সমাধির সামনে প্রয়াতদের ছবি, প্রিয় খাবার এবং ধূপের সুবাসে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়। কোথাও চলে ধর্মগ্রন্থ পাঠ আবার কোথাও নিচু স্বরে কীর্তন। শ্মশানকালী মন্দিরে চলে বিশেষ পূজা ও উলুধ্বনি।

মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি অসীম কুমার দাস মুরলী ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত জানিয়েছেন, এবার বাংলা ২২ কার্তিক (৭ নভেম্বর) সারারাত তিথি থাকায় এই উৎসব পালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই মহাশ্মশানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ মনোরমা বসু (মাসিমা), চিন্তাহরণ বসু, দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, রানী ভট্টাচার্য, হিরণলাল ভট্টাচার্য, শৈলেশ্বর চক্রবর্তী, বিপ্লবী প্রাণ কুমার সেনসহ বহু মনীষী। এমনকি কবি জীবনানন্দ দাশের পিতামহ সর্বানন্দ দাশ ও পিতা সত্যানন্দ দাশও এখানে সমাহিত। প্রিয়জন হারানোর বেদনার মাঝে ভালোবাসা ও ভক্তির এই অনন্য মহোৎসব শ্মশানকে এক ভিন্ন মানবিক রূপ দান করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *