মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অপ্রাসঙ্গিক, গুন্ডাদমনে কোনো রঙ দেখা হবে না: হুঙ্কার শুভেন্দুর
কলকাতা, ৭ মে ২০২৬। রাজ্য রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থানকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ শাণালেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে একেবারেই ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে পড়েছেন। তিনি ইস্তফা দেবেন কি দেবেন না, তা নিয়ে বিজেপি বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ইস্তফা জল্পনা ও শুভেন্দুর তোপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় স্বীকার না করা এবং ইস্তফা দিতে অস্বীকার করার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ তাঁদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুর্সিতে বসে থাকলেন কি থাকলেন না, তাতে কিছু যায় আসে না। সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই আগামী দিনে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিজেপি নেতৃত্ব এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফার চেয়েও নতুন সরকার গঠন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নিয়েই বেশি মনোযোগী।
ভোট-পরবর্তী হিংসা ও কড়া বার্তা
নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি রুখতে এদিন অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্রেরই জয়ী এই প্রার্থী। শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে একটিও হিংসার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন করবে। অপরাধীর কোনও রাজনৈতিক পরিচয় হবে না। যারা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজেপির ভবিষ্যৎ রূপরেখা
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে তিনি যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব ফুরিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, অন্যদিকে তেমনই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। গুন্ডাদমনের ক্ষেত্রে ‘ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে’ ওঠার বার্তা দিয়ে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কড়া শাসনের সংকেত দিয়েছেন, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক চালচিত্রকে বদলে দিতে পারে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।