মমতার বৈঠকে ১১ জন জয়ী প্রার্থীর গরহাজিরা, পরাজয়ের আবহে জোড়াফুলে বিদ্রোহের ছায়া!
রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চোরাস্রোত কি আরও গভীর হচ্ছে? বুধবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা নবনির্বাচিত পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই অন্তত ১১ জন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকেই উসকে দিল। দলের ভরাডুবির পর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন এতজন অনুপস্থিত থাকলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে বিস্ময় ও অস্বস্তি।
কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত কারা?
তৃণমূল সূত্রের খবর, বৈঠকে গরহাজির থাকা বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের কাজল শেখ, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাইরন বিশ্বাস, ভরতপুরের মুস্তাফিজুর রহমান (সুমন) এবং আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকির মতো পরিচিত নাম। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁদের এলাকায় আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কাজল শেখের ক্ষেত্রে নানুরের অশান্তির কারণ দর্শানো হলেও, অন্যদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাবে ক্ষুব্ধ দলেরই একাংশ। অনেক বিধায়কের প্রশ্ন, খোদ দলনেত্রীর ডাকা প্রথম বৈঠকে এমন অনুপস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।
দলত্যাগ ও বিদ্রোহের হুঁশিয়ারি: ‘অভিষেককে মানতে না পারলে দল ছাড়ুন’
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর মতো প্রবীণ নেতাদের সরব হওয়া তৃণমূলকে যথেষ্ট চাপে রেখেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও ফিরহাদ হাকিমদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গড়েছেন মমতা। বৈঠকে মমতা কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “যিনি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁকে বের করে দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানের প্রশংসা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিষেকের নির্দেশ মেনেই সবাইকে কাজ করতে হবে। যারা তাঁকে মানবেন না, তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দেন তৃণমূলনেত্রী।
প্রতিবাদের নতুন ভাষা: বিধানসভায় ‘কালো পোশাক’
গণনায় কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে মমতা এদিন নির্দেশ দিয়েছেন, তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীরা প্রথম যেদিন বিধানসভায় যাবেন, তাঁরা সবাই ‘কালো পোশাক’ পরে প্রতিবাদ জানাবেন। গণনায় ‘লুটের’ অভিযোগে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন থেকেই তৃণমূল তাদের নতুন কর্মসূচি শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।
ইস্তফা নয়, লড়াইয়ের জেদ
বিজেপির ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ফের পরিষ্কার করেছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। গণনায় কারচুপি নিয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরাজয়ের এই কঠিন সময়েও তিনি যে নিজের অবস্থানে অনড় এবং দলের রাশ শক্ত হাতে ধরতে চান, বুধবারের বৈঠক ছিল তারই প্রতিফলন।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।