চন্দ্রনাথ খুনে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি তৃণমূলের! বিজেপিকে পাল্টা বিঁধে আক্রমণাত্মক ঘাসফুল শিবির
কলকাতা, ৭ মে ২০২৬: মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় চাল দিল তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণত যে কোনো ঘটনায় বিরোধীরা সিবিআই (CBI) তদন্ত দাবি করে আসলেও, এবার ক্ষমতা হারানোর আবহে দাঁড়িয়ে খোদ তৃণমূলই আদালতের নজরদারিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে এই খুনের কিনারা করার দাবি জানাল। একইসঙ্গে এই ঘটনার দায় বিজেপির ওপর চাপিয়ে পাল্টা রাজনৈতিক বাণ ছেড়েছে ঘাসফুল শিবির।
সিবিআই তদন্তের দাবি ও তৃণমূলের যুক্তি
বুধবার গভীর রাতে চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাইছে— প্রথমত, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনো যোগ নেই; এবং দ্বিতীয়ত, নতুন সরকার আসার আগেই তারা কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপর আস্থা দেখিয়ে বিজেপির দিকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল।
বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ
বিবৃতিতে তৃণমূল দাবি করেছে যে, কেবল চন্দ্রনাথ রথ নন, গত তিন দিনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে তাদেরও তিনজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও কেন এই হিংসা রোখা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়াচ্ছে এবং তার দায় তৃণমূলের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গণতন্ত্রে হিংসা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো জায়গা নেই।”
মমতার সেই পুরনো কৌশল?
এক সময় বাম আমলের প্রতিটি বড় ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হতেন। গত ১৫ বছরের শাসনকালে সেই ধারা বদলে গিয়েছিল। এবার ক্ষমতার পালাবদলের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ফের একবার তাঁর দল সেই পুরনো পথেই হাঁটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীর গাড়ি ঘিরে ধরে যেভাবে অতর্কিতে গুলি চালানো হয়েছে, তাতে পেশাদার খুনিদের হাত রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু এবং চালকের জখম হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বারাসত জেলা পুলিশ। তবে তৃণমূলের এই সিবিআই তদন্তের দাবি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, যা আগামী দিনে বিজেপিকে কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।