‘ধন্যবাদ মাই লর্ড!’, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
সাংসদ অভিষেকের বাড়িতে হামলা ও নজরদারির অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকে তোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেকের বাসভবনের সামনে নজরদারি চালানো এবং শুক্রবার মধ্যরাতে তাঁর বাড়িতে হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর তিনি কলকাতা পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অভিষেকের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে তাঁর বাসভবনের সামনে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি নজরদারি চালাচ্ছিল। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের পুলিশ বলে দাবি করে। এ বিষয়ে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার মধ্যরাতে, যখন অভিষেকের জন্মদিন পালন উপলক্ষে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একদল ব্যক্তি অভিষেককে উদ্দেশ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেয় এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। অভিষেকের দাবি, তারা বিজেপির কর্মী-সমর্থক। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গেও সাংসদের বাক-বিতণ্ডা হয়।
অভিষেকের অভিযোগ, পুলিশ থাকা সত্ত্বেও বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, গত ছয় মাসে এই নিয়ে সাতবার তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির জন্য বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক লেখেন, “দুষ্কৃতীরা রাজ্যে তাণ্ডব চালাচ্ছে কারণ বিচার বিভাগ চোখ বন্ধ করে রেখেছে। নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ।”
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে বিতর্কে জড়িয়েছেন এই সাংসদ। ২০২২ সালে হলদিয়ার সভায় বিচারব্যবস্থার একাংশের বিরুদ্ধে ‘যোগসাজশ’ ও ‘তল্পিবাহক’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালেও কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। শুক্রবারের ঘটনায় আবারও সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টকে লক্ষ্য করে তাঁর এই কঠোর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।