নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার টোপ, আমেরিকার শান্তি প্রস্তাবে কি গলবে ইরান?
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত তিন মাসে পা রাখার পর অবশেষে কি শান্তির সুড়ঙ্গ দেখা যাচ্ছে? সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডারে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর যখন পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত, ঠিক তখনই তেহরানের কাছে ১৪ দফার এক ‘লোভনীয়’ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো এই প্রস্তাব ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
আমেরিকার শর্ত ও সম্ভাব্য সমঝোতা
রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, আমেরিকার এই এক পাতার স্মারকলিপিতে বেশ কিছু বড় ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্ত করে দেওয়া। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের যাবতীয় বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে আমেরিকা। বিনিময়ে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। যদিও এই সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে।
যুদ্ধের হুমকি ও পাকিস্তানের ভূমিকা
সরাসরি কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদের মাধ্যমেই শর্তাবলি চূড়ান্ত করে তেহরানে পাঠানো হয়েছে। তবে পর্দার আড়ালে শান্তির আলোচনা চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর এখনো চড়া। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, এমনকি সরাসরি বোমা বর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে যে চাপের মুখে রয়েছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তির এই প্রস্তাব তেহরানের জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয়। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তাদের চূড়ান্ত জবাব দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি ইরান এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব তেলের বাজারেও বড় ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। অন্যথায়, এই সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।