কোলে সন্তান, চোখে স্বপ্ন! একা হাতে কীভাবে গড়ে তুললেন বুড়িমার বাজির সাম্রাজ্য?

দেশভাগের যন্ত্রণাদগ্ধ দিনগুলো পেরিয়ে সাফল্য লেখার অনন্য লড়াইয়ের রূপকার অন্নপূর্ণা দাস, যিনি সবার কাছে পরিচিত ‘বুড়িমা’ নামে। ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশের ফরিদপুর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে এপারে এসে গঙ্গারামপুর শিবিরে বিড়ি বেঁধে চরম অভাবের সংগ্রাম শুরু করেন তিনি। পরে বেলুড়ে এসে লজেন্স ও খেলনার দোকান দিয়ে কালীপুজোয় ধারদেনা করে বাজি বিক্রি শুরু করতেই বাঁধ সাধে আইনি জটিলতা। লাইসেন্স না থাকায় পুলিশ দোকান ভেঙে দিলে দমে যাওয়ার বদলে তাঁর জেদ আরও বেড়ে যায়। আইন মেনে অনুমতি এনে এবং বাঁকড়ার কারিগর আকবর আলির কাছে বাজি তৈরি শিখে তিনি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

তাঁর তৈরি ‘বুড়িমার চকোলেট বোম’ এক নিমেষে বাজার মাতায় এবং উত্তরপাড়া থেকে বড়বাজার ঘুরে বাজার বুঝে পসরা সাজানোর দক্ষতায় বুড়িমা হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। পরবর্তীতে ডানকুনি, তালবান্দা এবং শিবকাশীতেও ছড়িয়ে পড়ে তাঁর কারখানার খ্যাতি। শব্দবাজি নিষিদ্ধ হওয়া কিংবা ১৯৯৫ সালে অন্নপূর্ণা দাসের প্রয়াণ—কোনো কিছুই বুড়িমা ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। বর্তমানে তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম অত্যন্ত সফলভাবে সামলাচ্ছে এই সুবিশাল ব্যবসা। এক সর্বহারা নারীর সংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠা এই বাজির সাম্রাজ্য আজ শুধু এক ব্যবসার নাম নয়, বরং অদম্য আত্মবিশ্বাস ও বাঙালি নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *