বিজেপির ‘মাছ উৎসব’ এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সরব গেরুয়া শিবির
কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে এক অভিনব ‘মাছ উৎসব’-এর আয়োজন করল বিজেপি। এই উৎসবের আড়ালে মূলত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের প্রচার ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল গেরুয়া শিবির। দলের নেতাদের দাবি, রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল সাধারণ মানুষকে মাছ ও ডিমের সরবরাহ নিয়ে প্রতিনিয়ত ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপি এটা প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, বাংলার মানুষের আমিষ খাবারের চাহিদার একটি বড় অংশ প্রতিবেশী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো থেকেই পূরণ হয়।
বিভ্রান্তি দূর ও স্বনির্ভরতার ডাক
বিজেপি নেতা তাপস রায় এই উৎসবের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে জানান যে, এবার থেকে বাংলার প্রতিটি মানুষ যাতে সুলভে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ খেতে পারেন, তার সুব্যবস্থা বিজেপি সরকার করবে। তিনি দাবি করেন, মানুষ যাতে মাছের জোগাড় নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তায় না থাকে, সেই দায়িত্ব নতুন সরকার গ্রহণ করছে। অন্য দিকে, দিলীপ ঘোষও তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, বাঙালিরা যে মাছ খাচ্ছে, তার সিংহভাগই এখন বাংলার নিজস্ব উৎপাদন থেকে আসছে, অন্ধ্রপ্রদেশ বা অন্য রাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমেছে—এমন দাবি তৃণমূল করলেও তা সম্পূর্ণ সত্য নয়।
রাজনৈতিক বার্তা ও সামাজিক প্রভাব
বিজেপির এই ‘মাছ উৎসব’ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মাছকে ইস্যু করে বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের ‘বাংলা দরদ’-কে চ্যালেঞ্জ জানাল। দিলীপ ঘোষের কথায়, “বাংলার মানুষকে মাছ খাওয়াচ্ছি আমরাই।” এই উৎসবের মাধ্যমে বিজেপি বোঝাতে চেয়েছে যে, কৃষিজাত পণ্য বা মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। বিরোধীরা একে নিছক রাজনৈতিক চমক বললেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে বিজেপি সফল হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই কর্মসূচি আগামী দিনে রাজ্যের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন দিশা দেখাতে পারে।