হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি এবং ‘শত্রু দেশ’-এর জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞার তোড়জোড়

আমেরিকার ইরান-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রবিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিন-কে উদ্ধৃত করে সে দেশের সেনার মুখপাত্র মহম্মদ আক্রমিনিয়া এই চরম বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যেসব দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের সময় বড় ধরনের ‘মুশকিলে’ পড়তে পারে।

আইনি পরিকাঠামো ও শত্রু দেশ চিহ্নিতকরণ

ইরানি পার্লামেন্টে বর্তমানে একটি বিশেষ বিলের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্ব আরও কঠোরভাবে জাহির করা। এই বিলে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার আইনি সংস্থান রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান মূলত একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে চাইছে, যেখানে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করতে হবে। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতার-সহ প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানকে এই জলপথকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানালেও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড়। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালীতে এই কড়াকড়ি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে আগামী দিনে সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বীমা খরচ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি দুই-ই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *