রাজ্যে একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নজিরবিহীন গতি আনতে চলেছে নতুন সরকার। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (আয়ুষ্মান ভারত) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া এই পরিষেবাগুলো দ্রুত সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।
একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক নির্দেশ
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেবল স্বাস্থ্য বিমাই নয়, বরং ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা’, ‘পিএম শ্রী’, ‘বিশ্বকর্মা’, ‘বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও’ এবং ‘উজ্জ্বলা যোজনা’-র মতো প্রকল্পগুলোও রাজ্যে পুরোদমে চালু করা হচ্ছে। এই কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে তিনি প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলোতে যাতে সমস্ত আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি দ্রুত পাঠানো হয়, তার জন্য কড়া সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের কৃষক, শ্রমিক এবং মহিলারা সরাসরি কেন্দ্রের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
উন্নয়নের নতুন দিশা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই এই ধরণের ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী আসলে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের প্রশাসনিক সমন্বয় মজবুত করার বার্তা দিলেন। এতদিন যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত ছিলেন, সেই বঞ্চনা দূর করাই তাঁর সরকারের প্রাথমিক অঙ্গীকার। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর এই সক্রিয় বাস্তবায়ন যেমন রাজ্যের আর্থিক বোঝা কিছুটা লাঘব করবে, তেমনই তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সোমবারের এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।