পতাকা বদলে বালি পাচারের নয়া কৌশল, আত্রেয়ীর ঘাটে প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান!
রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের আবহে বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদী থেকে অবৈধ বালি পাচার রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নজরদারি এড়িয়ে বালি চুরি করতে পাচারকারীরা এবার অবলম্বন করছে অভিনব কৌশল। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে ট্রাক্টরে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা পতাকা বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছে বালি মাফিয়ারা। তবে এই ‘ভোল বদল’ করেও শেষরক্ষা হচ্ছে না, প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়ছে পাচারকাজে লিপ্ত যানবাহন।
প্রশাসনের বাইক অভিযান ও মাফিয়াদের কৌশল
বালি মাফিয়াদের নিজস্ব তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা বা ‘ইনফর্মার’ নেটওয়ার্ক ভাঙতে গত সোমবার বালুরঘাট ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এক বিশেষ অভিযান চালায়। সরকারি গাড়ির উপস্থিতি টের পেলে পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় এবার বাইক নিয়ে ঝটিকা অভিযানে নামেন বিএলআরও রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল ও তাঁর দল। পতিরাম, পাগলিগঞ্জ এবং রাজাপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি চলাকালীন একটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করা হয়। দেখা যায়, প্রশাসনিক নজরে ছাড় পেতে ট্রাক্টরটিতে ধর্মীয় ও দলীয় পরিচয় সংবলিত পতাকা লাগানো ছিল। দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বালি পাচার রুখতে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।
রাজস্ব ক্ষতি ও আইনি পদক্ষেপের প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে জেলার নদীঘাটগুলো সরকারিভাবে লিজ না দেওয়ায় অবৈধ বালি উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লিজ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় একদিকে যেমন সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ কারবারিরা সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দলের নাম বা ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে কোনো বেআইনি কাজ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং ঘাটগুলোতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর ফলে পাচারচক্রের প্রভাব আগামীতে অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।