শান্তিপুরে জোড়াফুলের গড় টলিয়ে ১৮টি ওয়ার্ডেই পদ্ম-ঝড়
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং পরবর্তীতে উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ালেও, ২০২৬-এর মহারণে শান্তিপুর শহরে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। ২৪টি ওয়ার্ডের শান্তিপুর পুরসভায় মাত্র ৬টি ওয়ার্ডে লিড পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। বাকি ১৮টি ওয়ার্ডেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বিশেষ বিষয় হলো, তৃণমূল যেসব ওয়ার্ডে আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে, তার প্রতিটিই মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। এই ফলাফল শান্তিপুর শহরের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুরকর্তাদের নিজের ডেরাতেই ভরাডুবি
এবারের ফলাফলে সবথেকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শান্তিপুরের পুর-প্রশাসকদের নিয়ে। পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের নিজস্ব ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। এমনকি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে যেখানে চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং ভাইস চেয়ারম্যানের ১২ নম্বর ওয়ার্ডেও পদ্ম শিবির লিড নিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী এবং শহর তৃণমূল সভাপতির নিজের এলাকাতেও ঘাসফুল শিবিরের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। পাঁচজন সিআইসি (CIC) সদস্যের মধ্যে তিনজনের এলাকাতেই এগিয়ে গেছে বিজেপি। মূলত সংখ্যালঘু এলাকা না হওয়ায় এই হাই-প্রোফাইল নেতাদের ওয়ার্ডগুলিতে ভোটাররা তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
পরাজয়ের নেপথ্যে একাধিক কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিপুরে তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে একাধিক ত্রিমুখী কারণ। প্রথমত, গত পুরভোটে রিগিং ও ছাপ্পা ভোটের যে অভিযোগ উঠেছিল, তার নীরব প্রতিবাদ এবার ব্যালট বক্সে জানিয়েছেন শহরবাসী। দ্বিতীয়ত, নিয়োগ দুর্নীতি এবং সাম্প্রতিক আরজি কর কাণ্ডের মতো ইস্যুগুলি শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। তৃতীয়ত, বাম ভোটের মেরুকরণ তৃণমূলের বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। গত উপনির্বাচনে সিপিএম যে ভোট পেয়েছিল, তার একটি বিশাল অংশ এবার সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কেবল ধর্মীয় মেরুকরণ আর সংখ্যালঘু ভোটের ওপর ভর করে শান্তিপুরের গড় রক্ষা করা তৃণমূলের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।