জ্বালানি সাশ্রয় ও সোনার মোহ ত্যাগের ডাক, দেশবাসীকে দ্বিতীয়বার সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী!
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার মাঝে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে ফের দেশবাসীকে সংযমের পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার গুজরাতের বরোদা (ভদোদরা) সফরকালে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে জোড়া আবেদন রেখেছেন— আপাতত সোনা কেনার মোহ ত্যাগ করা এবং পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র পথ।
বিদেশি মুদ্রার সুরক্ষা ও আমদানিতে রাশ
বরোদায় সর্দারধাম প্রকল্পের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ চড়া দামে বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় খুব প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, সোনা আমদানিতে দেশের আয়ের একটি বিশাল অংশ ব্যয় হয় বলে অপ্রয়োজনীয় গয়না কেনায় সাময়িক বিরতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “নাগরিকদের ছোট ছোট সচেতনতা বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় রুখতে সহায়ক হবে।”
স্বদেশি পণ্য ও ঘরোয়া পর্যটনে গুরুত্ব
ডলারের সাশ্রয় করতে কেবল কেনাকাটা নয়, ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দেশবাসীকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিলাসবহুল বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে থাকা বৈচিত্র্যময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সময় কাটানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, এতে একদিকে যেমন বিদেশি মুদ্রা বাঁচবে, অন্যদিকে পুষ্ট হবে স্থানীয় অর্থনীতি। বিশ্ববাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ‘স্বনির্ভরতা’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ নীতিই যে ভারতের শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ, প্রধানমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্যে তা আরও একবার সুস্পষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দেশবাসীকে এখন থেকেই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটার জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি।