‘অযোগ্যদের চাকরি’ থেকে কোটি টাকার সম্পত্তি! সুজিতকে ঘিরে ED-র হাতে কী কী তথ্য?

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়! দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জালে রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় অন্তত ১৫০ জন অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

পুর-দুর্নীতির জাল ও ওএমআর কারচুপি

ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতির এই চক্রটি মূলত পরিচালিত হতো অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজোন’-এর মাধ্যমে। অভিযোগ, প্রভাবশালী নেতাদের সুপারিশে ওএমআর শিটে কারচুপি করে অযোগ্য প্রার্থীদের মজদুর, সাফাইকর্মী ও ক্লার্ক পদে নিয়োগ দেওয়া হতো। শুধু দক্ষিণ দমদম নয়, কামারহাটি, বরানগর ও টিটাগড়ের মতো একাধিক পুরসভাতেও একই কায়দায় জালিয়াতি হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। গত ২৫ অক্টোবর সুজিত বসুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছিলেন গোয়েন্দারা।

অবৈধ সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নজর

তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে সুজিত বসু একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন। এছাড়া তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ জমার তথ্যও ইডির হাতে এসেছে। এই বিপুল ‘অবৈধ’ সম্পত্তির উৎস ও গন্তব্য খুঁজে বের করতেই এখন কোমর বেঁধে নামছে ইডি। এর আগে নির্বাচনের ব্যস্ততা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একাধিকবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি, তবে শেষরক্ষা হলো না। আজ মঙ্গলবার তাঁকে কলকাতার বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে। সুজিতের এই গ্রেফতারি পুর-নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *