দুই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে উত্তপ্ত রাজনীতি, শাহ-মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে হুগলি ও নদীয়ায় দুই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হলো তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিংসা বাড়লেও কেন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব?

ঘটনার বিবরণ: হুগলি ও নদীয়া

তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দুই জেলায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই সক্রিয় কর্মী:

  1. সোমনাথ আচার্য (হুগলি): সপ্তগ্রাম বিধানসভার পোলবা-দাদপুর ব্লকের বাসিন্দা সোমনাথকে মারধরের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
  2. তপন শিকদার (নদীয়া): চাকদহ ব্লকের এই তৃণমূল কর্মীকে মঙ্গলবার সিলিন্দা বাজারে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। তিনিও আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

অভিষেকের তীক্ষ্ণ আক্রমণ

সোশ্যাল মিডিয়ায় (এক্স হ্যান্ডল) মৃত কর্মীদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তোলা প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

“তৃণমূলকে সমর্থন করাই কি অপরাধ ছিল? প্রশাসন কেন নীরব? পুলিশ নিষ্ক্রিয় কেন?”

  • প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা: অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি নেতারা যখন জয় উদ্‌যাপনে ব্যস্ত এবং প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন, তখন সাধারণ মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছেন।
  • আদালতের ভূমিকা: বিচারব্যবস্থাও এই পরিস্থিতিতে ‘নীরব দর্শক’ হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বিজেপির পাল্টা দাবি ও পুলিশের বয়ান

তৃণমূলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

  • হুগলি বিজেপি: জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যদি বিজেপির কেউ জড়িত থাকে, তবে তা প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
  • চাকদহ বিজেপি: বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষের মতে, এটি কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়। ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে এবং পুলিশ তা তদন্ত করে দেখুক।
  • পুলিশের ভাষ্য: হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ জানিয়েছেন, পোলবার ঘটনাটি ভোট-পরবর্তী হিংসার নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিজেদের মধ্যে মদ্যপানের সময় ঝামেলার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। ইতিপূর্বেই এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার এবং বিরোধীদের ওপর আক্রমণ না করার কড়া বার্তা দিলেও, নিচুতলায় এই অশান্তির ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন সরকার যেখানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে, সেখানে অভিষেকের এই অভিযোগ প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *