বাংলায় মমতার বিদায়! তিস্তা চুক্তির নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির জয়লাভে ওপার বাংলায় বইছে খুশির হাওয়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থানকে প্রধান বাধা হিসেবে মনে করত ঢাকা। এখন কলকাতায় ক্ষমতার পালাবদল সেই অচলায়তন ভাঙবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিস্তা চুক্তির পথে কাটল দীর্ঘদিনের বাধা
বিএনপির তথ্য সচিব আজিজুল বারি হেলাল ভারতের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের দাবি, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং জলবণ্টন চুক্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থবির হয়ে ছিল। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তার ৩৭.৫ শতাংশ জল বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই জট খুলবে বলে প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও গঙ্গা চুক্তির প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন কেবল তিস্তা নয়, বরং গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির নবায়নেও প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হতে চলেছে। ফরাক্কা বাঁধ থেকে পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের। ঢাকার মতে, মমতার বিদায়ের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্র ও বাংলাদেশের ত্রিপাক্ষিক আলোচনা আরও সহজতর হবে। এই পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, চাষাবাদ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মমতা সরকারের প্রস্থান দিল্লির সঙ্গে ঢাকার জলকূটনীতিকে একটি গতিশীল ও ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।