প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের হানা, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নতুন মহামারির আতঙ্ক

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ইঁদুরবাহিত মারণব্যাধি ‘হান্টাভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নেদারল্যান্ডের প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ ইতিমধ্যে অন্তত আটজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক দম্পতি ও একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে বর্তমানে ১৪৭ জন যাত্রী রয়েছেন, যার মধ্যে ভারতীয় ক্রু সদস্যরাও আছেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে ভাইরাসের অত্যন্ত সংক্রামক ‘অ্যানডেস স্ট্রেইন’ শনাক্ত করা হয়েছে।

সংক্রমণের বিস্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল জাহাজে প্রথম এক যাত্রীর শ্বাসকষ্ট ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে মৃতদেহের সংস্পর্শে আসায় তাঁর স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন আক্রান্ত হন। সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে এই ভাইরাস ছড়ালেও, অ্যানডেস স্ট্রেইনটি সরাসরি মানবদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে অবস্থান করছে, যেখানে যাত্রীদের নামিয়ে নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক যাত্রীকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঝুঁকির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

হান্টাভাইরাস নিয়ে বিজ্ঞানীদের মূল দুশ্চিন্তার কারণ হলো এর উচ্চ মৃত্যুহার ও চিকিৎসার অভাব। এশিয়া বা ইউরোপে এই ভাইরাসের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকলেও আমেরিকায় এর মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। মূলত আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং সাধারণ সেবার মাধ্যমেই সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথভাবে কন্টাক্ট ট্রেসিং বা আক্রান্তদের আলাদা করা না গেলে সীমাবদ্ধ স্থানে থাকা যাত্রীদের মাধ্যমে এই সংক্রমণ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এই জাহাজে থাকায় এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *