দুর্নীতির তদন্তে এবার সিবিআইকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
শপথ নেওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আটকে থাকা শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা এবং সমবায় দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত উচ্চপদস্থ আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে পূর্ণ স্বাধীনতা বা ‘খোলাছুট’ দিল নতুন সরকার। মূলত প্রশাসনের অন্দরে গেঁড়ে বসা দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ চার বছরের প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কর্মরত কোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন হয়। অভিযোগ ছিল, বিদায়ী সরকার গত চার বছর ধরে সেই অনুমতি আটকে রেখে অভিযুক্ত আমলাদের সুরক্ষা দিচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সবুজ সংকেতের ফলে এখন থেকে সিবিআই কোনো বাধা ছাড়াই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যারা যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দিয়েছে বা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
তদন্তের আওতায় শিক্ষক, পুরসভা ও সমবায় দুর্নীতি
রাজ্যের তিনটি বড় কেলেঙ্কারির তদন্ত এখন নতুন গতি পেতে চলেছে। প্রথমত, সরকারি স্কুলে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের মামলা, যেখানে যোগ্যদের সরিয়ে অযোগ্যদের চাকরির দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম এবং তৃতীয়ত, সমবায় সমিতিগুলোর অভ্যন্তরীণ জালিয়াতি। এই মামলাগুলোতে একাধিক প্রভাবশালী আমলার নাম জড়ালেও এতদিন আইনি জটিলতায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে যে সমস্ত আমলা বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও স্পষ্ট হলো। নতুন এই নির্দেশের প্রভাব সরাসরি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বিচার প্রক্রিয়ার ওপর পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।