প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কাটছাঁট করল এয়ার ইন্ডিয়া
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দামের প্রেক্ষাপটে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে বিদেশ ভ্রমণ কমানোর পরামর্শ দেওয়ার পরপরই সংস্থাটি তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া প্রতি মাসে ১,২০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও তেলের বাজার
মূলত অপরিশোধিত তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৯৫ ছাড়িয়ে ৯৬-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বিদেশি মুদ্রা ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সরকার তৎপর হয়েছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ কমানোর যে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন।
রুট বিন্যাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কাটছাঁট করলেও পাঁচটি মহাদেশ জুড়ে একটি টেকসই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বজায় রাখা হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, সংস্থাটি উত্তর আমেরিকায় সপ্তাহে ৩৩টি, ইউরোপে ৪৭টি, ব্রিটেনে ৫৭টি এবং অস্ট্রেলিয়ায় সপ্তাহে ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সার্ক দেশগুলোতে সপ্তাহে ১৫৮টি এবং আফ্রিকায় ৭টি ফ্লাইট চালু থাকবে।
উল্লেখ্য যে, তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলোও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জেট ফুয়েলের (ATF) অত্যধিক দামের কারণে অনেক রুট বর্তমানে লাভজনক না হওয়ায় অন্যান্য সংস্থাও তাদের কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন সীমিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বিমান খাতের আর্থিক লোকসান কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।