শহরের অবৈধ নির্মাণ রুখতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্নের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

তিলজলার এক অবৈধ কারখানায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ও তার জেরে দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। এই ঘটনার রেশ ধরে বুধবার কলকাতার সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ও বিপজ্জনক কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, যেসব বহুতল বা কারখানায় ন্যূনতম অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই এবং যেগুলি বেআইনিভাবে গড়ে উঠেছে, সেগুলির জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ অবিলম্বে কেটে দেওয়া হবে।

অ্যাকশন প্ল্যান ও প্রশাসনিক তৎপরতা

তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে চারটি দফতরের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর ও একবালপুরের মতো এলাকাগুলোতে অসংখ্য অবৈধ ওয়ার্কশপ ও বিল্ডিং প্ল্যানহীন পরিকাঠামো রয়েছে, যা শহরের নিরাপত্তার জন্য ‘অশনী সঙ্কেত’। ইতিমধ্যেই তিলজলার ওই অবৈধ কারখানার দুই মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে (CESC) ওই এলাকার বেআইনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সচিবের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কঠোর হুঁশিয়ারি

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানা ও বিপজ্জনক আবাসনগুলোর ওপর বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে এক দিনের মধ্যে চিহ্নিত অবৈধ পরিকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং কলকাতা পুরসভাকে (KMC) সেসব জায়গার জলের লাইন কেটে দিতে হবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় দুর্ঘটনা এড়ানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যারা নিয়ম অমান্য করে বেআইনি কারবার চালাচ্ছেন, তাদের দ্রুত সংশোধিত হওয়ার চরম হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *