টলিপাড়ায় ‘দাদাগিরি’ বন্ধে কঠোর সরকার, রুদ্র ও রূপা-সহ চার বিধায়কের কাঁধে বড় দায়িত্ব
টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের অরাজকতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং শুটিং সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপে নামল নবনির্বাচিত রাজ্য সরকার। বিগত কয়েক বছর ধরে ফেডারেশন ও ইম্পার অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শুটিংয়ের কঠোর নিয়মকানুন নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে চার অভিজ্ঞ শিল্পী তথা জনপ্রতিনিধিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায় এখন থেকে স্টুডিও পাড়ার শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ তদারকি করবেন।
অরাজকতা রুখতে কড়া বার্তা
ইন্ডাস্ট্রিতে ‘পাইয়ে দেওয়া’ সংস্কৃতি এবং সিন্ডিকেট রাজ বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, শিল্প-সংস্কৃতির জগতে কোনোভাবেই দাদাগিরি বা স্বজনপোষণ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে আউটডোর শুটিং বা ভিনরাজ্যের প্রযোজনা সংস্থা কাজ করতে এলে যে ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অসহযোগিতার অভিযোগ উঠছিল, তা কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ কাজের পরিবেশ তৈরি করাই এই নতুন কমিটির মূল লক্ষ্য।
পরিবর্তনের পথে টলিউড
বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের মতে, দীর্ঘদিনের অভ্যাসবশত কিছু পক্ষ এখনও ইন্ডাস্ট্রিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, যা বাংলা বিনোদন জগতের ক্ষতি করছে। দক্ষিণ ভারতীয় ছবির শুটিং ঘিরে সাম্প্রতিক জটিলতা এবং গিল্ডগুলোর চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এই নতুন উদ্যোগের ফলে টলিপাড়ায় কাজের পরিবেশ আরও পেশাদার হবে এবং অহেতুক রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত হয়ে শিল্পীরা কাজ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ টলিউডের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।