মধ্যবিত্তের পকেটে টান, জ্বালানি সংকটের আবহেই লিটার পিছু দুধের দাম বাড়াল আমুল
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং তার জেরে উদ্ভূত তীব্র জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব এবার পড়ল মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। দেশের অন্যতম শীর্ষ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থা আমুল তাদের দুধের দাম লিটার পিছু ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার থেকেই বাজারে এই নতুন দাম কার্যকর হতে চলেছে। মূল্যবৃদ্ধির এই ঝোড়ো হাওয়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষের কাছে আমুলের এই সিদ্ধান্ত বড়সড় আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে নতুন মূল্যের তালিকা
আমুলের ঘোষণার পর আমুল গোল্ডের ৫০০ মিলি প্যাকেটের দাম ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৫ টাকা। আমুল তাজা ও গরুর দুধের ৫০০ মিলি প্যাকেটের দাম ১ টাকা করে বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৯ এবং ৩০ টাকায়। আমুল শক্তি ও বাফেলো মিল্কের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে এক লিটারের টি-স্পেশাল প্যাকেটের দাম ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ টাকায় পৌঁছেছে। আমজনতার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা অপরিহার্য এই পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মাসের বাজেটে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও কৃষকদের সুবিধা
সংস্থার দাবি, গত এক বছরে গবাদি পশুর খাদ্যের খরচ বৃদ্ধি, প্যাকেজিং সামগ্রীর চড়া দাম এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচের কারণেই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই দাম বৃদ্ধির একটি অংশ সরাসরি কৃষকদের পকেটে যাবে বলেও জানানো হয়েছে। আমুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুধ সংগ্রহের জন্য কৃষকদের যে মূল্য দেওয়া হয়, তা ৩.৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি লিটারে ক্রেতাদের দেওয়া বাড়তি টাকার একটি বড় অংশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকরা পাবেন, যা তাঁদের উৎপাদন বজায় রাখতে উৎসাহিত করবে।
বাজার ও জনজীবনে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ খরচ যে হারে বাড়ছে, তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমুলের মতো বড় সংস্থা দাম বাড়ানোয় বাজারে অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের দামও বাড়তে পারে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতির হার আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে কঠিন করে তুলবে।