মমতাকে দেখেই উত্তেজনা তুঙ্গে! হাইকোর্টে ধাক্কাধাক্কি, কানে এলো ‘চোর’ স্লোগান

ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি ও বুলডোজার দিয়ে নির্মাণ ভাঙা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে নিজের বক্তব্য পেশ করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সময় আইনজীবীদের একাংশের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এদিন হাইকোর্ট চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে, যা নিয়ে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা।

আদালত কক্ষ ও চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা

এদিন মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে এজলাসে উপচে পড়া ভিড় ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সওয়াল করছিলেন, তখন আদালত কক্ষের ভেতরেই এক আইনজীবী তাঁর উদ্দেশে ‘নাটক করবেন না’ বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানি শেষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এজলাস থেকে বেরোতেই বিক্ষোভের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আইনজীবীদের একটি অংশ তাঁকে ঘিরে ধরে ‘পিসি চোর, ভাইপো চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ভিড়ের চাপে হাইকোর্টের প্রবেশদ্বারে থাকা মেটাল ডিটেক্টর গেটটি উল্টে যায় এবং ব্যাপক ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আইনজীবীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষা

বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, যারা একসময় বিচারব্যবস্থাকে মান্যতা দিতে অস্বীকার করেছিলেন বা বিচারপতিদের সমালোচনা করেছিলেন, আজ তাদেরই আদালতের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অনেক আইনজীবী এই উপস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন। বিক্ষোভের রেশ এতটাই তীব্র ছিল যে, এক আইনজীবী আদালত চত্বর ‘গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ’ করার দাবি তোলেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই আদালতে এই ধরনের নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

উচ্চ আদালতের প্রাঙ্গণে একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের সরাসরি স্লোগান ও বিক্ষোভ রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আইনি লড়াইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আইনজীবীদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ বিচারবিভাগীয় পরিসরে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের আইনি লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতায় আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *