ইন্টারনেট যুদ্ধ, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে ইরানের তুরুপের তাস কি সমুদ্রের তলদেশে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরম হুঁশিয়ারির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। সামরিক শক্তির আস্ফালনকে ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিমান বা নৌবাহিনীর প্রথাগত শক্তির মোকাবিলা করতে ইরান ‘অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল’ বেছে নিতে পারে, যার মূল লক্ষ্য হতে পারে সমুদ্রের তলদেশে বিছানো ফাইবার অপটিক কেবল।

ডিজিটাল ধমনীতে আঘাতের আশঙ্কা

বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৯৯ শতাংশই পরিবাহিত হয় সমুদ্রগর্ভের এই কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া এই ‘ডিজিটাল ধমনী’ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যদি এই কেবলগুলোতে আঘাত হানে, তবে এক লহমায় ভেঙে পড়তে পারে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, স্টক মার্কেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পথে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল থাকে, যা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

অপ্রতিসম যুদ্ধ ও বৈশ্বিক প্রভাব

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন বাহিনী মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে আধুনিক যুদ্ধবিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ‘ধূসর এলাকা’ বা সাইবার-ফিজিক্যাল পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লোহিত সাগরে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতসহ পশ্চিম এশিয়ার ইন্টারনেট পরিষেবা যেভাবে ব্যাহত হয়েছিল, তা এই আশঙ্কার পালে হাওয়া দিচ্ছে।

মেরামত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি

সমুদ্রের তলদেশে মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে থাকা এই কেবলগুলো অত্যন্ত অরক্ষিত। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা চলায় কোনো কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দ্রুত মেরামত করা কার্যত অসম্ভব। কারণ, বিশেষায়িত জাহাজগুলো নিরাপত্তার অভাবে ওই অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ইরানের এই ‘তুরুপের তাস’ যদি সত্যিই ব্যবহৃত হয়, তবে পারমাণবিক অস্ত্রও সেই ডিজিটাল বিপর্যয় ঠেকাতে পারবে না এবং বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *