সাম্রাজ্যবাদের স্মৃতি মুছে লোকভবনে এবার লোকগানের জয়গান!

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক বাসভবন ‘লোকভবন’-এর অন্দরে থাকা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের নামগুলো পরিবর্তিত করা হয়েছে। রাজ্যপাল আর এন রবির অনুমোদনের পর রাজ্যপালের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন স্বাক্ষরিত একটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে লোকভবনের বিভিন্ন কক্ষ, হল, প্রবেশদ্বার, উদ্যান এবং রাস্তার নাম বাংলার মহান মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের নামে পরিচিত হবে। গত সাত মাস আগে রাজভবন থেকে ‘লোকভবন’ নামকরণ হওয়ার পর এবার ঔপনিবেশিক স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
নতুন নামকরণের তালিকায় ‘প্রিন্স অব ওয়েলস স্যুইট’-কে ‘গুরুদেব কক্ষ’, ‘ওয়েলেসলি স্যুইট’-কে ‘মাতঙ্গিনী কক্ষ’ এবং ‘ডাফরিন স্যুইট’-কে ‘হরিচাঁদ ঠাকুর কক্ষ’ হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক ‘থ্রোন রুম’ এখন থেকে ‘বন্দেমাতরম সভাঘর’ এবং ‘মার্বেল হল’-এর অংশগুলো পরমহংস, বিবেকানন্দ ও মা সারদার নামে পরিচিত হবে। একইভাবে, প্রবেশদ্বারগুলোর নাম কবিগুরু দ্বার, ঋষি বঙ্কিম দ্বার, ক্ষুদিরাম বসু দ্বার ও সিধু-কানু দ্বার করা হয়েছে এবং গ্রন্থাগার ও রাজ্যপালের অফিস কক্ষের নতুন নাম হয়েছে যথাক্রমে ‘বিদ্যাসাগর গ্রন্থাগার’ ও ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কক্ষ’। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত নতুন নাম অনুযায়ী ফলক ও সাইনবোর্ড বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।