কালীঘাটের বৈঠকে মমতা! কুণাল ও অভিষেকের সংঘাত নিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতি

তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাটের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বৈঠকে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে আলোচনার সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তর কলকাতার নবনিযুক্ত সভাপতি কুণাল ঘোষের মধ্যে উত্তপ্ত বাদানুবাদ হয়। রদবদল বিলম্বিত করার ইঙ্গিত দিলে কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিষেকের সমালোচনা করেন। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে সুমিত রায়ের সমালোচনা এবং নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় উত্তেজনা বাড়ে। কুণাল ঘোষ পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, সুমিত রায় দলের কেউ নন, তাই তাঁকে সমর্থন করার প্রশ্ন ওঠে না। একই সঙ্গে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা মন্তব্য অস্বীকার করেন। প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, এই বৈঠকেই কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতার সভাপতি এবং অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগ নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতেই সুদীপ দল ছেড়েছেন। এই ঘটনা একদিকে পুরনো বনাম নতুন প্রজন্মের ক্ষমতার সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে, অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *