দিল্লির দরবারে এবার নাম দখলের লড়াই!
আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনে লোকসভার ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকার নিয়ে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই টানাপোড়েনের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রধান মুখ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ সত্তর মিনিট বৈঠক করেছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইঙ্গিত অনুযায়ী, অধিবেশনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করবে এবং কার পক্ষে কতজন সাংসদ রয়েছেন, লোকসভার ভেতরে তার সংখ্যা পরীক্ষার চ্যালেঞ্জও জানানো হয়েছে। তবে প্রতীক নিয়ে আইনি জটিলতা এড়াতে আপাতত তারা জোড়াফুল চিহ্নের অধিকার দাবি না করে কেবল ‘তৃণমূল’ নামটিকে হাতিয়ার করার কৌশল নিয়েছে।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে লোকসভা সচিবালয় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের মূল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করলে আসন বিন্যাস ও সংসদীয় স্বীকৃতির বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে, যা নিরসনে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের মতামত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে বাঁচতে বিদ্রোহী সাংসদরা বর্তমানে এনসিপিআই-এর ছত্রছায়ায় রয়েছেন। এদিকে, মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তা অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই প্রক্রিয়ায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের মতো নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আগামী ২১ জুলাই কলকাতায় তৃণমূলের শহিদ দিবসের ঠিক আগে ২০ জুলাই সংসদীয় এই শক্তিপরীক্ষা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।