হাম দো হামারে দো অতীত, কমছে প্রজনন হার ও ধেয়ে আসছে বার্ধক্যের ছায়া!

ভারতের জন্মহার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট (TFR) বর্তমানে ২.১-এর নিচে নেমে যাওয়ায় জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনারের সাম্প্রতিক ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট’ অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বাভাবিক প্রতিস্থাপন স্তর বা ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ অতিক্রম করে গেছে। গবেষকদের ধারণা, আগামী দুই দশকের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর কমতে শুরু করবে এবং এই শতকের শেষে তা ১০০ কোটির কাছাকাছি এসে পৌঁছাতে পারে। ইলন মাস্কও সম্প্রতি ভারতের নিম্নমুখী জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দেশজুড়ে এই জনমিতিক পরিবর্তনে বড় ধরনের আঞ্চলিক বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে বিহারে প্রজনন হার ২.৯, সেখানে দিল্লির হার ১.২ এবং কলকাতার মতো শহরাঞ্চলে তা ১.১ থেকে ১.২-এর কাছাকাছি, যা চিকিৎসকদের মতে ‘লোয়েস্ট-লো’ ফার্টিলিটি ট্র্যাপ। দ্রুত নগরায়ণ, একক পরিবারের প্রবণতা, সন্তান লালন-পালনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পেনশন ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *