আপনার নাগরিকত্বের আসল প্রমাণ আসলে কী!
১৪তম ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’ উপলক্ষে বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক মন্তব্য করেছেন যে, ভারতীয় পাসপোর্ট নাগরিকত্বের কোনো নথি নয়, বরং এটি কেবল একটি ‘ভ্রমণ নথি’। এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রশ্ন তুলেছেন যে, পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ না হয়, তবে একজন ভারতীয় কোন নথির সাহায্যে তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণ করবেন। সমালোচকদের মতে, কঠোর পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে যে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়, তা কেন সরাসরি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না—সেই প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিভিন্ন আইনি স্ববিরোধিতা ও সরকারি নিয়মাবলী। শিবসেনা সাংসদ আদিত্য ঠাকরে ও আইনজীবী কপিল সিব্বালের মতো নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের দলিল না হয়, তবে সরকার কেন এটি নিয়ে এত কঠোর নিয়ম বজায় রাখে। এদিকে, প্রাক্তন বিদেশসচিব নিরুপমা মেনন রাওয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রাত্যহিক জীবন ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট নাগরিকত্বের জোরালো প্রমাণ হলেও, আইনি বিবাদের ক্ষেত্রে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনই চূড়ান্ত। অর্থাৎ, আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট একক কোনো অকাট্য নথি হিসেবে গণ্য হয় না। বর্তমানে ভারতে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো একক নথি নেই; বিভিন্ন সরকারি নথির সমন্বয়েই নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করা হয়।