সুপার এল নিনোর দাপটে কি এবার উধাও শীত!
বার্তা ডেস্কঃ
সুপার এল নিনোর প্রবল প্রভাবে চলতি বছরে শীতের স্বাভাবিক অনুভূতি থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন দেশবাসী। আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব করের মতে, জুলাইয়ের শেষ থেকে সক্রিয় হওয়া এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতি সেপ্টেম্বরে চরম আকার ধারণ করবে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে উষ্ণ জলস্রোত বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করায় জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঘন ঘন অস্বাভাবিক নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ভূমিভাগ থেকে সঠিক নিয়মে তাপ বিকিরণ হতে পারছে না, যা উত্তুরে শীতল বায়ু চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ সক্রিয় থাকায় উত্তর-পূর্বের ঠান্ডা হাওয়া দেশে প্রবেশে বাধা পাচ্ছে, ফলে পিছিয়ে যাচ্ছে শীতের আগমন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের টানে নভেম্বরের শেষভাগে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কিছু পরিমাণ শীতল বাতাস ঢোকা শুরু করবে। এর ফলে ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক ঠান্ডার অনুভূতি মিলবে। তবে এই শীত কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মতো জাঁকিয়ে ঠান্ডা অনুভূত হলেও অতি দ্রুত তা বিদায় নেবে এবং অস্বাভাবিক দ্রুততায় দেশে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ১৯৯৭ সালের পর এত দীর্ঘমেয়াদী সুপার এল নিনোর মুখে ভারত আর পড়েনি। ফলে শীত ক্ষণস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যার মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।