‘ইসলামিক ন্যাটো’তে মিশর কেন নেই, নেপথ্যে কি ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব?
বার্তা ডেস্কঃ
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহেই চর্চায় এসেছে মক্কায় স্বাক্ষরিত তথাকথিত ‘ইসলামিক ন্যাটো’ সামরিক চুক্তি। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলি এতে যুক্ত থাকলেও শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও মিশর আপাতত এই জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কায়রোর এই পদক্ষেপের পেছনে ভারতের সঙ্গে তাদের সুদৃঢ় কৌশলগত সম্পর্ক একটি বড় কারণ।
ভারত ও মিশরের বন্ধুত্বের ভিত্তি অত্যন্ত গভীর। ১৯৫৬ সালের সুয়েজ খাল সঙ্কটে ভারত যেমন মিশরের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তেমনই ১৯৬১ সালে গোয়া মুক্ত করার অভিযানে পর্তুগিজ সামরিক জাহাজ আটকাতে সুয়েজ খালে সাহায্য করেছিল মিশর। নেহরু ও নাসেরের আমলে ‘জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন’ (NAM)-এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে সাড়ে চার লক্ষ সেনা এবং কৌশলগত সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ থাকা মিশরকে এই জোটে টানতে পাকিস্তান ও তুরস্ক জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানান, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের মতো ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মিত্রের সাথে দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করা কায়রোর অন্যতম অগ্রাধিকার। ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক ও কৌশলগত স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এখনই ‘ইসলামিক ন্যাটো’য় যোগ দিচ্ছে না মিশর।