হাসপাতাল চত্বরে ধূমপান ও থুতু ফেললে এবার কড়া ব্যবস্থা, জারি হলো ১০ দফা নির্দেশিকা!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য ভবন। এবার থেকে সরকারি হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সীমানার মধ্যে ধূমপান করা বা যত্রতত্র থুতু ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম অমান্য করলে অপরাধীকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। ২০১৭ সালের নির্দেশিকা সঠিকভাবে পালিত না হওয়ায়, তা পুনরায় আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) কাছে কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ দফা নির্দেশিকা:

১. তামাক ও থুতুমুক্ত অঞ্চল: রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ‘টোবাকো ফ্রি’ এবং ‘স্পিটিং ফ্রি’ জোন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। ২. নোডাল অফিসার নিয়োগ: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম নজরদারির জন্য একজন ‘নোডাল অফিসার’ থাকবেন। তাঁর নাম ও ফোন নম্বর সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রকাশ্য স্থানে টাঙানো থাকবে। ৩. নিয়মিত পরিদর্শন ও শাস্তি: ধূমপান বা থুতু ফেলা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে। ৪. সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড: হাসপাতালের প্রবেশদ্বার, ওপিডি (OPD), করিডোর, শৌচাগার, লিফট, ক্যান্টিন ও সিঁড়িতে ‘নো স্মোকিং’ এবং ‘নো স্পিটিং’ সাইনবোর্ড বসাতে হবে। ৫. বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধ: হাসপাতাল চত্বরে তামাকজাত সামগ্রী বিক্রি, জমা রাখা বা বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্পূর্ণ আইনি অপরাধ। ৬. দোকান ও স্টলে নজরদারি: হাসপাতালের ভেতরের ক্যান্টিন, স্টল বা বাইরের ভেন্ডররা কোনোভাবেই তামাক বিক্রি করতে পারবেন না। ৭. নিয়মিত অভিযান ও রেকর্ড: ‘জেলা টোবাকো কন্ট্রোল সেল’ নিয়মিত অভিযান চালাবে এবং কত টাকা জরিমানা আদায় হলো বা কতজন নিয়ম ভেঙেছে, তার হিসাব রাখবে। ৮. পর্যালোচনা: স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলা স্তরে সিএমওএইচ (CMOH) পুরো বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করবেন। ৯. পরামর্শ কেন্দ্র (Counseling): তামাকাসক্ত রোগীদের প্রয়োজনে ছাড়ানোর জন্য ‘টোবাকো সিসেশন সেন্টার’-এ পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে। ১০. বিশেষ নজরদারি: যেসব জায়গায় বারবার নিয়ম ভাঙা হবে, সেগুলিকে বিশেষ নজরদারিতে রেখে কড়া রিপোর্ট তৈরি করা হবে।

আইন অমান্য করলে কত টাকা জরিমানা?

  • পশ্চিমবঙ্গ ধূমপান ও থুতু ফেলা নিরোধক আইন (২০০১):
    • হাসপাতালে ধূমপান করলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
    • হাসপাতাল চত্বরে থুতু ফেললে ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
  • জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (COTPA, 2003):
    • জনসমক্ষে বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ধূমপান করলে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
    • ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
    • যেকোনো শিক্ষা বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের (৩০০ ফুট) মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হবে।

স্বাস্থ্য ভবনের এই কড়া নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ, জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *