অফিসে হাসিখুশি থাকা কি আসলেই কাজের ক্ষতি? জেনে নিন কর্পোরেট টিকে থাকার গোপন রহস্য!
বার্তা ডেস্কঃ
কর্পোরেট জগতের কাজের চাপ এবং অলিখিত নানাবিধ নিয়মকানুন প্রায়শই কর্মীদের মানসিক শান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অফিসে সহকর্মীদের সাথে হাসিখুশি থাকা কিংবা নিজের ব্যক্তিগত শখ মেটাতে একটু সময় দেওয়া—অনেক সময়ই বস বা সহকর্মীদের চোখে অলসতার লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তবে এই ধারণা ভেঙে কর্পোরেট দুনিয়ায় কীভাবে নিজের মানসিক শান্তি বজায় রেখে টিকে থাকা যায়, তার একটি দুর্দান্ত সহজ ফর্মুলা শেয়ার করেছেন কাশী বিশ্বনাথ নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। ইনস্টাগ্রামে তাঁর শেয়ার করা ভিডিওটি এখন ব্যাপক ভাইরাল!
১. পারফরম্যান্সই আপনার একমাত্র ঢাল কাশী বিশ্বনাথ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অফিসে আপনি কতটা আনন্দিত বা নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কতটা ব্যস্ত, তা দেখে অনেকেই ধরে নিতে পারেন যে চাকরিটি হয়তো আপনার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ভুল ধারণা ভাঙার একমাত্র উপায় হলো নিজের কাজকে কথা বলতে দেওয়া।
আপনাকে যে দায়িত্বই দেওয়া হোক না কেন, কোনো রকম খামখেয়ালি ছাড়া আপনার নির্ধারিত টার্গেট, KRA এবং KPI পূরণ করুন। কাজ নিখুঁত হলে আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা হাসি-খুশি থাকা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলার সাহস পাবে না।
২. টার্গেট মিস হলে অজুহাত খাটে না ভিডিওটিতে একটি কঠিন বাস্তব তুলে ধরা হয়েছে—যতক্ষণ আপনার কাজের রেজাল্ট ভালো, ততক্ষণ সবাই চুপ। কিন্তু একবার টার্গেট মিস হলে অতীতের ১০০টি ভালো কাজ মুহূর্তেই ভুলে যাবে সবাই! তাই কথায় নয়, অফিসের টেবিলে কাজের প্রকৃত ফলাফল এনে দেওয়াই চাকরি ও মানসিক শান্তি রক্ষার সেরা উপায়।
৩. ট্রেনিং ছাড়াই কাজে নামিয়ে দিলে কী করবেন? অনেক সংস্থাই আজকাল নতুন কর্মীদের (Freshers) কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং ছাড়াই সরাসরি কাজের প্রেশারে ফেলে দেয়। এর সমাধানে কাশীর পরামর্শ—তাত্ক্ষণিকভাবে আপনার ম্যানেজারের সাথে একটি ওয়ান-অন-ওয়ান মিটিং ডাকুন। তাঁকে স্পষ্ট বলুন, “আমি টিমের সেরা পারফর্মার হতে চাই, তাই আমার সঠিক গাইডেন্স দরকার।” আর মিটিং শেষ হওয়ার পরপরই পুরো আলোচনার সারসংক্ষেপ একটি ইমেইল করে ম্যানেজারকে পাঠিয়ে দিন, যাতে ভবিষ্যতে আপনার কাছে লিখিত প্রমাণ (Written Proof) থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের সমর্থন কাশী বিশ্বনাথের এই প্র্যাকটিক্যাল পরামর্শ সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। নেটিজেনদের মতে, অফিসে লোকদেখানো ব্যস্ততা দেখানোর চেয়ে নিজের কাজের রেজাল্ট দিয়ে প্রমাণ করাই একজন পেশাদারের আসল পরিচয়।