চিকেনস নেকের সুরক্ষায় ৮৪৪ কোটির মাস্টারস্ট্রোক, ভারতের সামরিক শক্তিতে নতুন জোয়ার!

বার্তা ডেস্কঃ

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck)-এর নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করতে একটি সুবিশাল ৬ লেনের বিকল্প সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক। এটি বহু পুরনো ও ঐতিহ্যের প্রতীক সেবকের ‘করনেশন সেতু’ (Coronation Bridge)-র বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অখণ্ডতা রক্ষা এবং উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশে এই মেগা প্রকল্প এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

প্রকল্পের মূল রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য:

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রধান দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

  • ৬ লেনের আধুনিক বিকল্প সেতু: দীর্ঘদিনের জীর্ণ করনেশন সেতুর ওপর থেকে ভারী যানবাহনের চাপ কমাতে সেবকে তিস্তা নদীর ওপর আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ৬ লেনের সেতুটি তৈরি হবে।
  • বিশাল সংযোগকারী সড়ক (Approach Road): শুধু সেতুই নয়, যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন ও দ্রুত করতে প্রায় ৬.৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগকারী সড়ক নির্মাণ করা হবে।
  • বিপুল মেগা বাজেট: পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আনুমানিক ৮৪৪ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • দ্রুত ও নিরাপদ পরিবহন: এই নতুন অবকাঠামো চালু হলে পর্যটন কেন্দ্র ডুয়ার্স ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলিগুড়ির মধ্যে যাতায়াত বহুগুণ দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

ভৌগোলিক ও সামরিক মানচিত্রে ‘চিকেনস নেক’ ভারতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলির একটি। সংকীর্ণ এই ভূখণ্ডটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের আসাম, মেঘালয়, সিকিম ও অন্যান্য রাজ্যগুলিকে যুক্ত করে রেখেছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও শক্তিশালী পরিবহন ব্যবস্থা বজায় রাখা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রাথমিক শর্ত।

বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী করনেশন সেতুটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জীর্ণ হয়ে পড়েছে, যার ফলে সেখানে ভারী যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। নতুন এই ৬ লেনের বিকল্প সেতুটি চালু হলে: ১. ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সীমান্তে পৌঁছাতে পারবে। ২. আসাম, সিকিম ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে গতি আসবে। ৩. ডুয়ার্স ও শিলিগুড়ির ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *