লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে রণক্ষেত্র মালদহ, মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ!

বার্তা ডেস্কঃ

অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩ হাজার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে একযোগে আছড়ে পড়ল বঞ্চিত মহিলাদের তীব্র ক্ষোভ। আবেদন ও দফায় দফায় ভেরিফিকেশন সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না আসায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। মালদহের এক বিক্ষোভকারীর সুর চড়িয়ে দাবি, “চুলোয় যাক অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, আমরা দিদির লক্ষ্মীর ভান্ডারই চাই।”

কোচবিহারে প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও কোচবিহারের হরেন্দ্রনারায়ণ রোডে মহিলা, শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী মালতী রাভা রায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে নামেন প্রায় ১০০ জন মহিলা। আবেদনকারীদের অভিযোগ, একাধিকবার যাচাই করার পরেও মেলেনি টাকা। চন্দনা সরকার নামে এক আন্দোলনকারী জানান, তিনটির বেশি ঘর থাকার অজুহাতে অনেকের আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। প্রিয়াঞ্জনা রায় জানান, ১৭ অগস্ট থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার কথা থাকলেও টানা ২ দিন অপেক্ষার পরও তারা শূন্য হাতে ফিরেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী নামাতে হয়।

বালুরঘাটে ধস্তাধস্তি ও ইটবৃষ্টি দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে এসডিও (SDO) ও জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। ভেঙে দেওয়া হয় নামের ফলক, ছোড়া হয় ইট। মূল রাস্তা অবরোধ করলে যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামে পুলিশ ও মহিলা কমব্যাট ফোর্স। এছাড়া বালুরঘাট বিডিও অফিস ও গঙ্গারামপুর পুরসভাতেও বিক্ষোভ চলে। আন্দোলনকারী জয়িতা ঘোষের অভিযোগ, যোগ্য দিনমজুর বা ছোট ব্যবসায়ীদের পরিবার হওয়া সত্ত্বেও আশ্বাস দিয়ে শেষ মুহূর্তে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রায় এক লক্ষ আবেদনের মধ্যে শর্ত পূরণ না হওয়ায় কিছু আবেদন বাতিল হয়েছে। তবে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে অভিযোগ জানালে দ্রুত টাকা পাবেন। অন্য দিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকারের দাবি, অধিকাংশ মহিলাই টাকা পাচ্ছেন। বাম ও তৃণমূল উসকানি দিয়ে এই অশান্তি তৈরি করছে।

মালদহে পুরসভা ঘেরাও মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার সামনে প্রায় ১৫০ জন মহিলা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারী শম্পা ভৌমিক বলেন, গরিব মহিলারা যদি সুবিধাই না পান, তবে এই প্রকল্প তুলে দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুরসভার কাজ কেবল যাচাই করা; টাকা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *