ব্রেন স্ট্রোকে গবেষকের মর্মান্তিক মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে কাঠগড়ায় হায়দরাবাদের হাসপাতাল!

বার্তা ডেস্কঃ

জরুরি চিকিৎসার সময় নিয়মের কড়াকড়িতে অপচয় হলো অত্যন্ত মূল্যবান সময়, যার পরিণতিতে অকালে প্রাণ হারালেন এক মেধাবী তরুণ। চিকিৎসায় চরম গাফিলতির দায়ে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল জেলা উপভোক্তা কমিশন। ব্রেন স্ট্রোকের শিকার হওয়া হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পিএইচডি গবেষকের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে যৌথভাবে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সূর্য প্রতাপ (৩০) হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। ওই বছরের ১৭ আগস্ট হস্টেলের করিডর থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়ে দ্রুত তাঁকে গাচিবৌলির সিটিজেন্স স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষায় জানা যায়, সূর্যের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছিল এবং তাঁকে বাঁচাতে অবিলম্বে ‘মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি’ করা প্রয়োজন ছিল।

অভিযোগ ওঠে, জীবনদায়ী চিকিৎসা শুরু না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রটোকলের দোহাই দিয়ে সময় নষ্ট করে। সেই সময় করোনা মহামারী চলায় কোভিড রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ফেলে রাখা হয়—যদিও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী জরুরি অবস্থায় কোভিড রিপোর্টের জন্য চিকিৎসা আটকে রাখা নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়া রোগীর বাবা-মা ঘটনাস্থলে না থাকায় তাঁদের লিখিত সম্মতির অপেক্ষায় চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সূর্যের বন্ধুরা চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে প্রস্তুত ছিলেন।

এই দীর্ঘসূত্রিতার ফলে সূর্যের শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে সরানো হলেও ২১ আগস্ট তিনি মারা যান।

ছেলের অকালমৃত্যুর পর বিচার চেয়ে উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন সূর্যের বাবা-মা। দীর্ঘ শুনানি শেষে কমিশন সিটিজেন্স স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল ও নিউরোলজিস্ট ডা. অপর্ণা বিজয়কুমারকে যৌথভাবে দোষী সাব্যস্ত করে। নির্দেশ দেওয়া হয়, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; ব্যর্থ হলে বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদ গুণতে হবে। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরিকে এই মামলা থেকে মুক্ত করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের প্রশাসনিক নিয়মের চেয়ে রোগীর প্রাণ বাঁচানোই যে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়া উচিত, এই রায় তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *