ক্যামেরা আছে ফিড নেই! রাজ্য জুড়ে সিসিটিভি কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্য জুড়ে অপরাধ দমন ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ক্যামেরা পুলিশের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু সেই নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে উঠে এল চরম গাফিলতি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ক্যামেরা ঝুললেও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে তার লাইভ ফিড পৌঁছচ্ছে না।
অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সিম কার্ড সরকারি নামে না কিনে নেওয়া হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ারদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে। পরবর্তীকালে দীর্ঘদিন সেই সিমে রিচার্জ না করায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ক্যামেরাগুলি অচল হয়ে যায়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো—ক্যামেরা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাতায় ইন্টারনেট রিচার্জ ও মেরামত বাবদ নিয়মিত অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে। এমনকী, বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের (AMC) চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও জাল নথি তৈরি করে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর নজরদারির জন্য বসানো বেশ কিছু ক্যামেরাও গায়েব হয়ে গিয়েছে, যা নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করেই দায় সেরেছে প্রশাসন। ক্যামেরা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকরা জানা সত্ত্বেও কেন কোনো পদক্ষেপ নেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই বিশাল অনিয়ম সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে:
- নতুন ক্যামেরা ও রক্ষণাবেক্ষণ: রাজ্যের কোন জেলায় কতগুলি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে, তার তালিকা তৈরি করে অচল ক্যামেরাগুলি বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডাকা হচ্ছে নতুন সংস্থাকে।
- সরকারি নামে সিম: সিভিক বা ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের বদলে এবার থেকে সিম কার্ড সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার নামে কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- কঠোর নজরদারি: প্রতি মাসে ইন্টারনেট রিচার্জ হচ্ছে কি না এবং কন্ট্রোল রুমে নিরবচ্ছিন্ন লাইভ ফিড আসছে কি না, তার স্টেটাস রিপোর্ট ভবানী ভবনে পাঠাতে হবে। কোনো কারণে লাইভ ফিড বন্ধ থাকলে তার কারণ জেলা পুলিশকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।