কারখানা নয়, আবাসন! জমির জট কাটাতে আজ নবান্নে হাইভোল্টেজ বৈঠক

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: রাজ্যে নতুন শিল্প টানতে আর জমির অভাব হবে না! বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা সরকারি ও বেসরকারি কারখানার জমি নতুন করে শিল্পায়নের কাজে লাগাতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য সরকার। আসানসোল-দুর্গাপুর থেকে শুরু করে হাওড়া, হুগলি কিংবা উত্তর ২৪ পরগনা—রাজ্যের কোথায় কত একর জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরি করছে শিল্প দপ্তর।

শিল্প দপ্তরের কর্তারা ইতিমধ্যেই আসানসোল–দুর্গাপুর অঞ্চলের বন্ধ হিন্দুস্তান কেবলস ও হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজ়ারের জমি সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ় (বিসিসিআই)-সহ একাধিক প্রভাবশালী বণিকসভার সঙ্গে পরামর্শ করেই এই রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের শিল্পনীতি চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিগোষ্ঠীর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে, যেখানে এই জমির বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে চলেছে।

কোথায় কত জমি অব্যবহৃত পড়ে?

  • আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল: হিন্দুস্তান কেবলস ও হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজ়ারেই পড়ে রয়েছে প্রায় ১,৪৮৮ একর জমি। এছাড়া সাইকেল কর্পোরেশন (২৩৯.১ একর), এমএএমসি (১৫৩.৪ একর), সেন র‍্যালে সাইকেল, ভারত অপথ্যালমিক গ্লাস ও কেশোরাম ইন্ডাস্ট্রিজ়ের মতো অন্তত পাঁচটি বন্ধ সংস্থার অধীনে আরও ২০৯৫ একর জমি ও জলাশয় রয়েছে।
  • গঙ্গার তীরবর্তী জুটমিল: ন্যাশনাল জুট মিল কর্পোরেশনের (NJMC) আওতাধীন ছ’টি জুটমিলের প্রায় ৪০০ একর আইনি জটিলতামুক্ত জমি ধাপে ধাপে নিলামের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র।
  • অন্যান্য বড় শিল্পাঞ্চল: বার্ন স্ট্যান্ডার্ডের হাওড়া ও রানিগঞ্জ ইউনিটে প্রায় ৯৭৫ একর, দমদমের জেশপে ৭০ একর, হাওড়ার বেলুড়ে নিসকোর ৬৯ একর এবং সাহাগঞ্জের ডানলপ কারখানার ২৫০ একর জমিকে দ্রুত শিল্পায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।

সাব-লিজ় ও রিয়েল এস্টেট কারচুপি বন্ধে কড়া পদক্ষেপ:

তদন্তে উঠে এসেছে, বেশ কিছু কারখানা তৎকালীন রাজ্য সরকারের থেকে ৯৯ বছরের ইজারায় (লিজ়) জমি নিয়েছিল শুধুমাত্র শিল্পের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বর্তমানে ঋণ শোধ বা লাভের আশায় বহু সংস্থা সেই জমি সাব-লিজ় দিয়ে রিয়েল এস্টেট বা আবাসন প্রকল্প তৈরির চেষ্টা করছে। বণিকসভাগুলির পরামর্শে, শিল্পের জমি যাতে কোনোভাবেই অন্য কাজে হাতবদল না হতে পারে, সে বিষয়ে নতুন শিল্পনীতিতে কড়া আইনি নিয়ম আনতে চলেছে নবান্ন।

ঢাকেশ্বরী কটন মিল কিংবা মোহিনী মিলের মতো পুরনো কারখানাগুলির আইনি জট ছাড়িয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে পারলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের পথ আরও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *