‘বাংলায় আপনার নেতৃত্বেই লড়ব!’ মমতাকে বার্তা অধীরের

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে ফের পুরোনো ঘর কংগ্রেসে ফিরে যাচ্ছেন? দিল্লির রাজনীতিতে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটে সোনিয়া-রাহুলদের পাশে মমতার উপস্থিতি এবং অন্যদিকে রাজ্য রাজনীতির জটিল সমীকরণের মাঝেই নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। গত এক দশক ধরে মমতার তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত অধীর সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোকে কংগ্রেসে ফিরে এসে বাংলায় নেতৃত্ব দেওয়ার খোলা প্রস্তাব দিয়েছেন।

কী বলেছেন অধীর চৌধুরী? বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “আপনার সমস্ত এমপি, এমএলএ-দের নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার তলায় চলে আসুন। আপনি নেতৃত্ব দিন, আমরা তা সানন্দে মেনে নেব। লোটাকম্বল গুটিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের মতো বটগাছের নিচে আসতে চাইলে আসুন, তবে সব রাজনৈতিক ব্যাগেজ ফেলে আসতে হবে।”

অধীরের এই মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। দিল্লিতে ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে মোদী-বিরোধী কৌশল নিয়ে যখন মমতা আলোচনা করছেন, ঠিক তখনই অধীরের এই বার্তা রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই তেলঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রীও পুরোনো কংগ্রেস নেতাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার পরপরই অধীরের এই প্রস্তাবকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কী মতামত কংগ্রেস শিবিরের? অধীর চৌধুরীর এই অবস্থানের পর কংগ্রেসের অন্দরে নানা মতামত উঠে আসছে:

  • সুমন রায়চৌধুরী (প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র): তাঁর মতে, এই মুহূর্তে মূল লড়াই সংবিধান বাঁচানোর এবং সেই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী। মমতা যদি সত্যিই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে চান, তবে তাঁকে রাহুলের জাতীয় নেতৃত্ব মেনেই কাজ করতে হবে।
  • মনোজ চক্রবর্তী (প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক): তিনি অধীরের বক্তব্য সমর্থন করে জানান, কংগ্রেস তাঁর কাছে যাচ্ছে না, পরিস্থিতিই মমতাকে কংগ্রেসের দিকে ঠেলছে। তাই নানা খেলা না খেলে তাঁর একবারে কংগ্রেসে ফেরাই শ্রেয়।
  • স্থানীয় নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া: মুর্শিদাবাদ ও নবগ্রামের কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে এই প্রস্তাব যুক্তিযুক্ত। তবে দলে ফিরে এসে ফের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বা ‘ছড়ি ঘোরানো’ মানা হবে না বলেও বার্তা দিয়েছেন কেউ কেউ।

পাল্টা জবাব তৃণমূলের: অধীরের এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা মানুষের স্বার্থে রাজনীতি করেন। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যখন তিনি সরাসরি আলোচনা করছেন, তখন হঠাৎ অন্য কারও অকারণ খোঁচা মারার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।”

রাজনীতির গতিপথ কোথায়? ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ তিন দশক পর ‘ইন্ডি’ জোটের সমীকরণ ও রাজ্য রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে অধীরের এই আহ্বান বাংলায় নতুন কোনো মেরুকরণের জন্ম দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *