তৃণমূলের অফিস গেরুয়া হতেই রণক্ষেত্র এলাকা!
বার্তা ডেস্কঃ
বীরভূম: বীরভূমের সিউড়িতে এক অভূতপূর্ব ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ! দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের এক আঞ্চলিক কার্যালয়ে রাতারাতি লেগে গেল গেরুয়া রং। শুধু দেওয়াল রাঙানোই নয়, অফিসের ছাদ ও বেদিতে সগর্বে উড়িয়ে দেওয়া হলো বিজেপির পদ্ম-পতাকাও। তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়— সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত খোলা সম্ভব হলো না অফিসের তালা!
কী ঘটেছিল তিলপাড়ায়? ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ির তিলপাড়া এলাকায়। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় পার্টি অফিসটি ধীরে ধীরে দুষ্কৃতীদের আঁখড়ায় পরিণত হচ্ছিল। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে এবং ভয় কাটাতে গতকাল হঠাৎই সেখানে হাজির হন স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, নিমেষের মধ্যেই কার্যালয়টির বাইরে গেরুয়া রং লেপে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যায়।
তৃণমূল অফিস দখলে জেলা সভাপতির লাল চোখ! অফিস দখলের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করেন বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নির্দেশের তোয়াক্কা না করে এমন পদক্ষেপ করায় তীব্র আপত্তি জানান তিনি। ফোন করেই অবিলম্বে তৃণমূল কার্যালয়ে গেরুয়া রং করার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন জেলা সভাপতি।
ঘটনা প্রসঙ্গে উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “তিলপাড়ায় সরকারি খাস জমির উপরে তৃণমূলের ওই অফিসটি ছিল। দলের সর্বভারতীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে— কোথাও তৃণমূলের অফিস দখল বা গেরুয়া রং করা যাবে না। আমাদের সংখ্যালঘু মোর্চার কয়েকজন কর্মী উৎসাহের বশে কাজটি করছিল। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।”
কী বলছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব? এই অভিযানে অন্যতম নেতৃত্ব দেওয়া বিজেপি কর্মী ত্রিভুবন মিশ্র জানান, “আমরা সাধারণ মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়েই গিয়েছিলাম। স্থানীয়দের ইচ্ছে ছিল এখানে আলো জ্বলুক, অফিস খুলুক যাতে এলাকার ভয়ের পরিবেশ কেটে যায়। কিন্তু জেলা সভাপতি নির্দেশ দেওয়ার পর আমরা তাঁর কথাকে মান্যতা দিয়ে পিছিয়ে এসেছি। আগামী দিনে দল যেমন নির্দেশ দেবে, সেভাবেই চলা হবে।”
আপাতত পার্টি অফিসে গেরুয়া রং ও বিজেপির পতাকা ঝুললেও, শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বার্তায় স্থগিত রাখা হয়েছে দখল পর্ব। সিউড়ির রাজনীতির এই নাটকীয় মোড় এখন নেটপাড়ায় চর্চার তুঙ্গে!