মমতার চোট নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু, রিপোর্ট কি তবে অন্য কথা বলছে!

বার্তা ডেস্কঃ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুর নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সেই সিদ্ধান্তের কারণ খোলসা করলেন তিনি। পাশাপাশি, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনা নিয়েও এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন শুভেন্দু।

কেন নন্দীগ্রাম ছাড়লেন শুভেন্দু? প্রচারের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ফের ওই কেন্দ্র থেকে লড়াই করার একটা সুযোগ চলে আসত। তাঁর কথায়, “যাঁকে মানুষ বিতাড়িত করেছে, আমি ভবানীপুর ছেড়ে দিলে তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন।” এই রাস্তা বন্ধ করতেই তিনি ভবানীপুর ধরে রাখার কৌশল নেন।

‘পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার ছিল না’ এরপরই ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু। সেবার প্লাস্টার করা পা নিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই গোটা রাজ্যে প্রচার করেছিলেন মমতা। অভিযোগের তির ছিল শুভেন্দুর দিকেই। মমতা দাবি করেছিলেন, বহিরাগত গুন্ডাদের দিয়ে পরিকল্পনা করে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ বছর পর সেই ঘটনার কড়া জবাব দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, মমতার পায়ে আদতে কোনও ফ্র্যাকচারই হয়নি। তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি (SSKM) হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এক্স-রে প্লেট রোগীর কাছে থাকলেও রিপোর্ট হাসপাতালের কাছে থাকে। আমার কাছে সেই রিপোর্ট আছে। সেখানে ডাক্তাররা স্পষ্ট লিখে দিয়েছেন— ‘নো ফ্র্যাকচার’।”

কীভাবে লেগেছিল চোট? আদতে সেদিন কী ঘটেছিল, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এটি কোনও পরিকল্পিত হামলা ছিল না। গাড়ির দরজা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে এসে মমতার পায়ে লেগেছিল। সেই সাধারণ আঘাতকেই নির্বাচনে ফায়দা লুটতে ‘পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। উপনির্বাচনের আবহে শুভেন্দুর এই দাবি ঘিরে ফের সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *