হুগলির ১৪ আসনেই ফুটবে ঘাসফুল? তাপ-উত্তাপহীন আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাম-বিজেপি
চুঁচুড়া: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনার আগে হুগলি জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কাটাছেঁড়া তুঙ্গে। জেলার ১৪টি আসনেই জয় নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক শিবিরের অন্দরে ফলাফল নিয়ে কোনও বাড়তি উত্তেজনা বা স্নায়ুর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং তাঁদের সমস্ত মনোযোগ এখন সোমবারের গণনা প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত রাখার দিকে।
আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে ঘাসফুল শিবির
হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরিন্দম গুঁইন জানিয়েছেন, সারা বছর মানুষের পাশে থেকে কাজ করার সুফল এবারও ব্যালট বক্সে দেখা যাবে। চণ্ডীতলা থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতিটি আসনেই ঘাসফুলের আধিপত্য বজায় থাকবে বলে দাবি করেছেন তিনি। বুথ ভিত্তিক সমীক্ষা সেরে তৃণমূল নেতৃত্ব একপ্রকার নিশ্চিত যে, ২০২১ সালের জয়ের ধারা এবারও অব্যাহত থাকবে। তবে জয় নিয়ে নিশ্চিত থাকলেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে দলের কর্মীদের গণনাকেন্দ্রে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সভাপতি।
বিজেপি শিবিরে উত্তেজনার পারদ
তৃণমূল যখন নিরুত্তাপ, তখন বিজেপি শিবিরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে টানটান উত্তেজনা। হুগলি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, দলীয় সমীক্ষায় সপ্তগ্রাম, বলাগড়, চুঁচুড়া, ধনেখালি ও সিঙ্গুরের মতো আসনগুলোতে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। এই আসনগুলো নিয়ে পদ্ম শিবিরের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস দেখা যাচ্ছে। জয়ের বিষয়ে আশাবাদী গেরুয়া নেতৃত্বও এখন শেষ মুহূর্তের গণনার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
বামেরা ব্যস্ত কাজের কাজ নিয়ে
অন্যদিকে, সিপিএম বা বাম শিবিরের অন্দরে ফলাফলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কাউন্টিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণে। হুগলি জেলা সিপিএম সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা মানুষের বিবেচনার ওপর ভরসা রাখছেন। গণনাকেন্দ্রে যাতে কোনও কারচুপি না হয়, তার জন্য এজেন্টদের খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চর্চার চেয়ে কাজের কাজ করাতেই বেশি মন দিচ্ছে আলিমুদ্দিনের কর্মীরা।
গণনার মহাপ্রস্তুতি
শনিবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জেলাজুড়ে তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ভোট পরবর্তী সমীক্ষা বা এক্সিট পোল নিয়ে চর্চা চললেও, তৃণমূল নেতৃত্ব ইভিএম পাহারায় এবং গণনাকর্মীদের গতিবিধিতে কড়া নজর রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট’ হুগলির প্রতিটি বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। ৪ মে চুঁচুড়া থেকে সিঙ্গুর—কার দখলে যায় হুগলির রণাঙ্গন, এখন সেটাই দেখার।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।