সংরক্ষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তোপ, আপনি ভুল নম্বর ডায়াল করেছেন!
বার্তা ডেস্কঃ
সংরক্ষিত আসন রোটেশনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের
নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর জেলার ১৯১-কাদিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন সংরক্ষণের নিয়ম পরিবর্তনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের পছন্দের ওপর আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
মামলাকারী জগদীশ সিংয়ের দাবি ছিল, ১৯৫২ সাল থেকে টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কাদিপুর আসনটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু পরিবার বারবার রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি পঞ্চায়েত ও পুরসভার মতো বিধানসভা নির্বাচনেও আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ‘রোটেশন সিস্টেম’ বা ঘূর্ণন ব্যবস্থার দাবি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, রোটেশন না থাকায় সংবিধানের ১৪, ১৫ এবং ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের অধিকার খর্ব হচ্ছে।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘‘এটি তো বিক্ষোভ ও আন্দোলনের যুগ। আদালতের দরজা কড়া না নেড়ে আপনার বরং রাজপথে আন্দোলনে নামা উচিত ছিল।’’ এর জবাবে আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের রাজপথে নামার কোনো ইচ্ছা নেই।
বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘গণতন্ত্রে ভোটদান সবসময় জাতির ভিত্তিতে হবে—এমন ধারণা ভুল। আদালত গণতান্ত্রিক পছন্দের ওপর কোনো বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না; এটি সম্পূর্ণ ভোটারদের নিজস্ব বিষয়।’’ বিচারপতি আরও যোগ করেন, আসন সংরক্ষিত থাকলেও সাধারণ ভোটাধিকার খর্ব হয় না। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ভোটাররা প্রার্থীর জাত বা ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক দলের ভাবাদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি, কেউ চাইলে অসংরক্ষিত আসন থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
আবেদনকারীর যুক্তি ও আইনি ভিত্তি পর্যালোচনার পর শীর্ষ আদালত এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে এবং জনস্বার্থ মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেয়।