নির্বাচনে আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটার! আব্দুলের ঐতিহাসিক জয়ে গর্বিত কর্নাটক
আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে জয়ী আবদুল এল-সায়েদ, উচ্ছ্বসিত কর্নাটকের ভাটকলের আত্মীয়রা
ভাটকল: আমেরিকার রাজনীতিতে প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে জয়ী হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন আবদুল এল-সায়েদ। তাঁর এই সাফল্যে সুদূর আমেরিকার মাটিতে উচ্ছ্বাস থাকলেও, তার রেশ পৌঁছেছে ভারতের কর্নাটকের ভাটকলে। সেখানে বসবাসকারী তাঁর আত্মীয়দের কাছে এটি কেবল একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং পরিবারের সদস্যের আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতির এক গর্বের মুহূর্ত।
ভোটের ফল প্রকাশের সময় পরিবারে উদ্বেগ থাকলেও, জয়ের খবর আসতেই খুশির জোয়ার বয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আত্মীয়দের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ভাটকলের আত্মীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে ইসলামবিদ্বেষ এবং বিদ্বেষমূলক রাজনীতির আবহে দাঁড়িয়ে আবদুলের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর আত্মীয় জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া এবং বিবি হুসনা জানান, কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল থেকে আবদুলের এই সাফল্য সমাজকে সমান অধিকার ও গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দেয়।
আবদুলের সঙ্গে ভাটকলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলায় আবদুলের বাবা ডঃ সায়েদ সন্তানদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য নিয়মিত ভাটকলে নিয়ে আসতেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে এক আত্মীয়ের বিয়েতে এসে কয়েক দিন ভাটকলে কাটিয়েছিলেন আবদুল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে পরিবারের সদস্যরা জানান, এত বড় মাপের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরেও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার নেই। বরং অত্যন্ত নম্র ও আন্তরিক স্বভাবের আবদুল স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খুব দ্রুত মিশে যেতেন। ভাটকলের বিরিয়ানি ও স্থানীয় লঙ্কা বাটা ‘লোনমিরি’-র প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোলাগার কথাও উঠে এসেছে আত্মীয়দের কথায়।
আবদুলের এই সাফল্যের পেছনে তাঁর পারিবারিক মূল্যবোধের প্রভাব দেখছেন পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা। জুকাকু শামসুদ্দিন জিয়া জানান, আবদুলের দাদু মরহুম জে এইচ শামসুদ্দিন একসময় তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর সততা, নীতিবোধ এবং জনসেবার মানসিকতার সঙ্গে আবদুলের রাজনৈতিক চিন্তাধারার নিবিড় মিল রয়েছে। পরিবারের মতে, ক্ষমতার চেয়ে জনসেবাকে প্রাধান্য দেওয়ার যে আদর্শ তাঁরা বংশপরম্পরায় লালন করেছেন, আবদুলের সাফল্যের মাধ্যমে তারই স্বীকৃতি মিলেছে।
পরিশেষে ভাটকলের পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী, দুর্নীতি ও বিদ্বেষের রাজনীতির বিরুদ্ধে আবদুলের এই লড়াই বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁদের মতে, যে মানুষটি একসময় আত্মীয়ের বিয়েতে সাধারণ অতিথি হয়ে ভাটকলে এসেছিলেন, আজ তাঁর সাফল্যের খবর আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত হচ্ছে—এটি তাঁদের জন্য এক বড় আবেগের ও গর্বের বিষয়।