দালির অধিবাস্তবতায় শ্যামা আরাধনা, দাঁতনের এই কালীপুজোয় ‘অপার্থিব’ সমন্বয়
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের প্রত্যন্ত পল্লিতে সুররিয়ালিজম ও সনাতন শক্তি আরাধনার এক অভিনব যুগলবন্দি নজর কাড়ছে। শাস্ত্রমতে কালী হলেন কাল ও মহাকালের প্রতীক, আর সেই চেতনাকেই রূপকের মোড়কে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছেন ডেবরা শহীদ ক্ষুদিরাম কলেজের বাংলা বিভাগের আংশিক সময়ের শিক্ষক তথা তরুণ গবেষক অরিজিৎ মান্না। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা অরিজিৎ শৈশব থেকেই প্রতিমা গড়ায় যুক্ত। ২০১৭ সাল থেকে নিজের বাসভবনের শ্যামাপুজোয় নানা থিম ভাবনার পর, ২০২৬ সালে তাঁর আরাধনার কেন্দ্রে রয়েছে বিখ্যাত স্প্যানিশ সুররিয়ালিস্ট শিল্পী সালভাদর দালির সৃষ্টিলোক। ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ পড়ানোর সময় তাঁর মস্তিষ্কে এই দর্শনের উদয় হয়, যেখানে দালির চিত্রকলার ঘুম ও সময়ের প্রতীকের সঙ্গে ভারতীয় দর্শনের মহাকাল একসূত্রে বাঁধা পড়েছে।
এই শিল্পতপস্যাকে বাস্তবে রূপ দিতে পাড়ার একদল উৎসাহী তরুণ হাত মিলিয়েছে এবং দালির অবচেতন কল্পনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক শ্যামাসংগীত। সুরজিৎ প্রামাণিকের কথায় এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আলাপন ভৌমিক ও অন্তরা মান্না, আর তালযন্ত্রে সঙ্গত করেছেন বিপ্লবজ্যোতি সাহা। ইতিমধ্যেই এই মিউজিক ভিডিয়ো রিলিজ হয়েছে এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও দাঁতনের বুদ্ধিজীবী মহলে এই স্বতন্ত্র পুজোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোড়ন।