কেরলে কুর্সির লড়াই ঘিরে তুঙ্গে গৃহযুদ্ধ, ওয়ানড় নিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে হুঁশিয়ারি কর্মীদের
কেরল বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর নয় দিন অতিবাহিত হলেও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে জট কাটছে না। প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে নতুন মুখ্যমন্ত্রীরা শপথ নিলেও কেরলে ইউডিএফ জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে দিল্লির হাইকমান্ড এবং স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে চরম সংঘাত তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীরা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ওয়ানড় লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বেণুগোপাল বনাম সতীশন লড়াই
বর্তমানে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াই মূলত দুই নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। একদিকে আছেন হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ তথা বর্ষীয়ান নেতা কে সি বেণুগোপাল এবং অন্যদিকে কেরল বিধানসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি কেরলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, অধিকাংশ শীর্ষ নেতাই বেণুগোপালকে কুর্সিতে দেখতে আগ্রহী। দশজন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে সাতজনই বেণুগোপালকে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে সতীশন পেয়েছেন মাত্র দুই নেতার সমর্থন। বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিথালা এই দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কর্মীদের বিদ্রোহ ও ওয়ানড় বিতর্ক
শীর্ষ নেতৃত্ব বেণুগোপালের দিকে ঝুঁকলেও কেরলের সাধারণ কংগ্রেস কর্মীরা ভি ডি সতীশনের পক্ষেই অনড়। তাঁদের দাবি, সতীশনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই ইউডিএফ ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টিতে বিশাল জয় পেয়েছে। রাজ্যজুড়ে পোস্টার ও ব্যানার টাঙিয়ে কর্মীরা সাফ জানিয়েছেন, সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী না করা হলে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ওয়ানড় থেকে প্রত্যাখ্যান করা হবে। ওয়ানড় রাহুল গান্ধীর আসন হওয়ায় কর্মীদের এই ‘ওয়ানড় ভুলে যান’ স্লোগান হাইকমান্ডের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে এই বিলম্ব এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে কেরল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছে। যদিও রমেশ চেন্নিথালার মতো প্রবীণ নেতারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা বলছেন, কিন্তু নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করা এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরলে বড় জয়ের পর এই অভ্যন্তরীণ কলহ কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।