ইরানের খুব খারাপ সময় আসতে চলেছে, চিন সফর থেকে ফিরেই চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

চিন সফর শেষ করে দেশে ফিরেই ইরান প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমঝোতায় না এলে তেহরানের কপালে বড়সড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিকতম মন্তব্যে পশ্চিম এশিয়ায় পুনরায় সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, একটি নতুন চুক্তি বা সমঝোতায় আসার ক্ষেত্রে ইরানের নিজেদেরই স্বার্থ রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য খোলসা করেননি যে সেই স্বার্থ ঠিক কী। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো যদি নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের অপূরণীয় অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে; ট্রাম্প পরোক্ষে সেই বিপদের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক ও ট্রাম্পের অসন্তোষ
চিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইরান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কৌশলগতভাবে চিন ইরানের দীর্ঘদিনের সহযোগী হলেও, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চায় বেজিংও। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানকে চাপ দেওয়ার জন্য তিনি বেজিংয়ের কাছে কোনো অনুরোধ করেননি।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া যে আপাতত পুরোপুরি থমকে গেছে, তা ট্রাম্পের কথাতেই স্পষ্ট। ইরান সম্প্রতি যে সমঝোতার প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিল, তা প্রথম লাইনেই নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের পাঠানো শর্তগুলো আমেরিকার পক্ষে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের মেঘ
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। পেন্টাগন সূত্রে খবর, ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের ওপর নতুন করে আঘাত হানতে প্রস্তুত মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে আবারও গোলাবর্ষণ শুরু হতে পারে, এমনটাই ধরে নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।
অন্য দিকে, আমেরিকার এই অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ইরানও। দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসন সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে তেহরানের অন্দরে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব এবং সামরিক প্রস্তুতির জেরে ইরান সীমান্তে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।