ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না জিততে পারাই কি কাল হলো ট্রাম্পের? পাল্টি খেলেন ভান্সও?
ইরান যুদ্ধের দায় নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে মতভেদ, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ালেন শীর্ষ নেতারা
ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের হতাশাজনক ফলাফলের পর দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। হারের নেপথ্যে ‘ইরান যুদ্ধ’কে দায়ী করে সরব হয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তবে এই দাবি মানতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের একাংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ভান্স সরাসরি ইরান যুদ্ধের দিকে আঙুল তোলেন। অতীতে প্রকাশ্যে ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা না করে ট্রাম্পকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে আসা ভান্সের এই ‘স্ববিরোধী’ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। সূত্রের খবর, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন দেখা ভান্সের কাছে এই পরাজয় বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই হারের ফলে আগামী নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতার টিকিট পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ভান্সের এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রাম্প তা অবগত নন বলে জানান। বৃহস্পতিবার বিদেশ সফরের প্রাক্কালে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যুদ্ধ জরুরি ছিল বলেই আমেরিকা যুদ্ধে নেমেছিল এবং প্রয়োজনে আবারও নামবে।” ভাইস প্রেসিডেন্টের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাসরি আক্রমণ না করলেও, তিনি যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার পক্ষেই নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন।
তবে ট্রাম্প এবং ভান্সের এই দ্বন্দ্ব এখন দলের গণ্ডি পেরিয়ে বড় আকার ধারণ করেছে। অন্তত ৮ থেকে ১০ জন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা সরাসরি ট্রাম্পের ওপর দায় চাপিয়ে দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধের ব্যর্থতার কারণেই এই হারের মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে। এমনকি ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলোতেও দলের ভরাডুবি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল যুদ্ধই হারের কারণ নয়, বরং যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যর্থতাই মূল সমস্যা। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ইরানকেই আমেরিকার সামনে সবচেয়ে বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টানা আট মাসেও যুদ্ধ জয় করতে না পারার বিষয়টি জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।