ফের বাতিল নিট, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশে মাথায় হাত ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর
দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ডাক্তারি পড়ুয়ার স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট (NEET) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ামক সংস্থা। একইসঙ্গে এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে রাজস্থান যোগ ও সিবিআই তদন্ত
চলতি বছরের ৩ মে আয়োজিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সূত্রপাত হয় রাজস্থানের শিকর জেলা থেকে। রাজস্থান স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—সেখানে একটি প্র্যাকটিস সেটের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের প্রায় ৬০০ নম্বরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। পরীক্ষা শুরুর আগেই কীভাবে ৭২০ নম্বরের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ প্রশ্ন মিলে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ছাপানোর আগেই তা পাচার করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির অভিযোগে রাজস্থান থেকে ইতিমধ্যেই ৪৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার গভীরতা বুঝে কেন্দ্র এবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা
একবার পরীক্ষা দেওয়ার পর ফের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে জেনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এনটিএ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট করেছে:
- রেজিস্ট্রেশন: পরীক্ষার্থীদের নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না, পুরনো নম্বরেই পরীক্ষা দেওয়া যাবে।
- অ্যাডমিট কার্ড ও ফি: এনটিএ-র পক্ষ থেকে নতুন অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এর জন্য পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোনও ফি দিতে হবে না।
- পরীক্ষা কেন্দ্র: সাধারণত আগের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলিতেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এনটিএ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই পরীক্ষার নতুন সূচি সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে। প্রশ্নফাঁসের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা এখন দেখার বিষয়।