নিট পরীক্ষার আগেই কার হাতে পৌঁছেছিল প্রশ্ন? জয়পুরে গ্রেফতার ঘিরে চাঞ্চল্য
সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ৩ মে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। ২০২৪ সালের ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার পরীক্ষার মাত্র নয় দিনের মাথায় তা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ইতিমধ্যেই দুর্নীতির শিকড় সন্ধানে বড়সড় সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছে।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজস্থানের সীকর
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেন্দ্রবিন্দু রাজস্থানের সীকর জেলা। সোমবার সেখান থেকেই ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, জয়পুর থেকে মণীশ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যাকে এই চক্রের অন্যতম প্রধান পাণ্ডা বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, পরীক্ষার আগেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে এই আন্তর্জাতিক স্তরের চক্রের বিস্তার কতদূর, তা জানার চেষ্টা চলছে।
পুনরাবৃত্তির ছায়ায় দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সিবিআই তদন্ত হয়েছিল। সেবার ওএসিস স্কুলের আধিকারিকদের যোগসাজশে প্রশ্নপত্র বার করে তা ‘সলভার’ বা উত্তরদাতাদের মাধ্যমে সমাধান করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করার তথ্য সামনে এসেছিল। এবারও ঠিক একই কায়দায় রাজস্থান থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরীক্ষার দিন ঘোষণার আগেই এমন কেলেঙ্কারি সামনে আসায় দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কেন্দ্রের নির্দেশে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।